শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাসহ সকল খুনিকে গ্রেফতার করে বিচার করতে হবে --- আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো : গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাসহ সকল খুনীদের গ্রেফতার করে বিচার করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, সংসদীয় দলের সাবেক হুইপ, চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর দেওয়ানজি পুকুর লেনস্থ মহানগরী কার্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক কর্মপরিষদ বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা জানান। 

 à¦¬à§ˆà¦ à¦•ে সকলের সম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দীর্ঘ à§§à§® বছর ধরে চালানো সকল গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাসহ সকল খুনীদের গ্রেফতার করে বিচার করতে হবে। সারাদেশে সংঘটিত সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিগত সরকারের শাসনামলে দায়েরকৃত সকল রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

 à¦¬à§ˆà¦ à¦•ে বলা হয়েছে, গত à§§à§® বছর দেশের মানুষ অনেক জুলুমের শিকার হয়েছে। তাই এই জুলুম অবসানের জন্য ছাত্রজনতা রাস্তায় নামে এবং পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিতভাবে গুলী করে শত শত ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে। ছাত্র-জনতার উপরে ইতিহাসের জঘন্যতম বর্বর গণহত্যা চালায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের এক সঙ্কটকাল পেরিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আজ স্বাধীন। গত ১৬ বছর ধরে দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল। দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যাংক লুটপাট, ডেস্টিনি, হলমার্ক ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলে। স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রশাসনে শৃঙ্খলা বলতে কিছু ছিল না। মানুষের ভোটাধিকার শুধু হরণ করা হয়নি, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মেধাবী ছাত্রদেরকে বেছে বেছে নির্যাতন ও তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলকে সভা, সমাবেশ ও মিছিল করতে দেয়া হয়নি। সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মাধ্যমে সকল নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে। নিজেদের কৃত অন্যায়, অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে জাময়াত-ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ বিরোধী মতের মানুষকে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত সরকারের দলীয় ক্যাডারদের আড়াল করার ভূমিকার কারণে দায়ী ব্যক্তিরা পার পেয়ে গেছে।

মহানগরী আমীর শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দেশের কঠিন সময়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর, উপাসনালয় ও সহায়-সম্পদে হামলা চালিয়ে কোনো কুচক্রীমহল যাতে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। অতীতেও বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনায় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট করে তার দায়-দায়িত্ব জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। দেশে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির প্রশাসনকে সবধরনের সহযোগিতা করে যাবে।

তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়ে দেশকে বিজয় এনে দিয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। যারা এই জালিম সরকারের দ্বারা কারা নির্যাতিত হয়েছে তাদের জন্য সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা এই বিজয় পেয়েছি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ পেয়েছি, দ্বিতীয় বার স্বাধীনতা পেয়েছি। এই দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, এখন আমাদের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খায়রুল বাশার, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মুহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি এস এম লুৎফুর রহমান ও চট্টগ্রাম মহানগরী অফিস সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ